প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিন্ড্রোম (Premenstrual Syndrome – PMS)

  • মেজাজের পরিবর্তন হওয়া ও খিটখিটে হয়ে যাওয়া
  • দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ
  • বিষণ্নতা
  • হঠাৎ কেঁদে ফেলা
  • মেজাজ ওঠা-নামা করা এবং রেগে যাওয়া
  • খাবারে রুচির পরিবর্তন হওয়া
  • নিদ্রাহীনতা বা ঘুমের সমস্যা হওয়া
  • সবার সাথে মেলামেশা থেকে বিরত থাকা
  • অবচেতনভাবে অসচেতনতা

প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিন্ড্রোম (Premenstrual Syndrome – PMS) হওয়ার কারণ

মাসিকের পূর্ববর্তী সময়ে প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিন্ড্রোম হওয়ার সঠিক কারণ সেভাবে না জানা গেলেও নিচের কারণগুলো এর জন্য দায়ী বলে ধরা হয়:

  • হরমোনের চক্রাকারে পরিবর্তন
  • মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নামক রাসায়নিক বস্তু অপর্যাপ্ত থাকলে বা কম বেশী হওয়া
  • বিষণ্নতা
  • মানসিক চাপ
  • ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার কম খেলে, লবণাক্ত ও ক্যাফেইন জাতীয় খাবার বেশি খেলে ও মাদক গ্রহণ করলে

প্রি-মেন্সট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিজঅর্ডার (Premenstrual Dysphoric Disorder – PMDD)

প্রি-মেন্সট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিজঅর্ডার বা পি.এম.ডি.ডি হলো প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিন্ড্রোম (Premenstrual Syndrome) বা PMS এর তীব্র রুপ। PMS হলো মাসিকের আগের বিভিন্ন লক্ষণ। PMDD অবস্থায় PMS-এর লক্ষণগুলো এত বেশি তীব্র আকার ধারণ করে যা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং আশেপাশের মানুষের সাথে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই অবস্থায় প্রতি মাসিক চক্রের ৭ থেকে ১০ দিন আগে প্রচণ্ড বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তাবোধ হয়ে থাকে। এসময় অল্পতেই রেগে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এ উপসর্গগুলো মাসিক শুরুর ঠিক আগে আগে হয় এবং সাধারণত মাসিক শুরু হয়ে গেলে আর থাকে না।

প্রি-মেন্সট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিজঅর্ডার (Premenstrual Dysphoric Disorder – PMDD) হওয়ার কারণ

PMS-এর মতই PMDD-র কারণও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে মাসিক চক্রের শেষ সপ্তাহে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন-এর মাত্রা কমে যাওয়াটা এতে একটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়। যেসব নারীর বিষাদজনিত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে বা বাচ্চা জন্মদানের পরবর্তী সময়ে বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন, তাদের এই সমস্যাটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অন্য যে কয়টি জিনিসের জন্য PMDD-তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেগুলো হলঃ

  • মদ্যপান করলে
  • মোটা হলে
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করলে
  • ব্যায়াম না করলে এবং
  • পরিবারে মায়েরও একই সমস্যা থাকলে।

 

PMDD-তে আক্রান্ত হলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারেঃ

  • শারীরিক লক্ষণঃ পেট ফুলে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডাইরিয়া, স্তনে টনটনে ব্যথা বোধ, মাথাব্যথা, গিঁটে বা মাংসপেশিতে ব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা বা অপরিমিত খাওয়া
  • প্রাত্যহিক কাজকর্ম বা মানুষজনের সাথে সম্পর্কগুলোতে কোন আগ্রহ না পাওয়া
  • ক্লান্তিবোধ বা শক্তিহীনতা বোধ করা
  • নিরাশা বা দুঃখবোধ, কোন কোন ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়া
  • দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বোধ করা
  • নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা
  • দ্রুত মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়া এবং মাঝে মধ্যে কান্নাকাটি করা
  • হঠাৎ প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হওয়া
  • দ্রুত বিরক্ত হওয়া বা রেগে যাওয়া
  • ঘুমের সমস্যা
  • কোন কিছুতে মনযোগ দিতে না পারা

 

প্রি-মেন্সট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিজঅর্ডার আছে এটা নিশ্চিত হওয়া গেলে এর চিকিৎসা করাটা খুবই সহজ। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে, জীবন যাত্রায় প্রচুর পরিবর্তন এবং কারো সমস্যা খুব বেশি হলে ওষুধ এবং কাউন্সেলিং।

তথ্য উৎসঃ

https://www.med.unc.edu

http://all-power.weebly.com

http://www.infokosh.gov.bd