ছেলেরা কেন মাসিক নিয়ে কথা বলবে

ছেলেরা কেন মাসিক নিয়ে কথা বলবে

কোন বিষয়ে না জানলে তা নিয়ে ভুল ধারনা জন্ম নেয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভুল ধারনা শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি বিশেষেই সীমাবদ্ধ থাকে না সেটার প্রভাব তার আচরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে তার কাছের মানুষদের মধ্যেও । তাই আর সব বিষয়ের মত মাসিক নিয়েও ছেলেদের জানা ও খোলামেলা কথা বলা দরকার। যে বিষয়গুলো জানা ও যা নিয়ে কথা বলা দরকার:

  • পৃথিবীর সব মেয়েদের মাসিক হয় যেটা একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই এতে লজ্জার বা গোপনীয়তার কিছু নেই
  • মাসিকের মাধ্যমে একজন নারীর প্রজননঅঙ্গ ধীরে ধীরে প্রস্তুত হতে থাকে সন্তান ধারণের জন্য অর্থাৎ নিয়মিত মাসিকের ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে মা হতে পারবে। তবে মাসিক হওয়া মানেই যে মেয়েটি বিয়ে ও সন্তানধারণের জন্য প্রস্তুত তা নয়; সেটাও মনে রাখতে হবে 
  • মাসিক নিয়ে জোকস বা টিজ করার কিছু নেই; পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের অন্যতম কারণ হল আমাদের মায়েদের মাসিক হওয়া
  • মাসিকের সময় যে রক্তটা বেরিয়ে যায় তাতে বিভিন্ন টিস্যু ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন পদার্থ থাকে যা আসলে জরায়ুর ভেতরে তৈরি হয় ভ্রূণের পুষ্টিসাধনে। গর্ভবতী না হলে সে সকল পদার্থ রক্তের সাথে মাসিক আকারে বেরিয়ে যায়
  • মাসিক সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। অন্যান্য সময়ের মত এ সময়ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন
  • মাসিকের আগে এক সপ্তাহ সময়কালের মধ্যে সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রম বা পিএমএস দেখা দেয়। যার ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মন খারাপ লাগাসহ নানান ধরণের লক্ষণ দেখা দেয়। তাই কোন সহপাঠী বা পরিবারের মেয়ে সদস্য যদি সে সময় মেজাজ খারাপ করে কিছু বলে তবে বুঝে নেবেন তা পিএমএস-এর কারণে।
  • মাসিকের সময় নারীর জরায়ু খুবই নাজুক অবস্থায় থাকে এবং এসময় ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অন্যান্য সময়ের মত এ সময়ও কনডম ছাড়া সেক্স বা যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। অনেকে মাসিকের সময় সেক্স করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না তাই অন্যান্য সময়ের মত মাসিকের সময়ও সেক্স করতে আপনার সঙ্গিনী রাজি কি না তা জেনে নেয়া উচিত 

কমেন্ট করুন

আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসটি প্রকাশ করা হবে না