ভ্রমণের সময় মাসিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত

ভ্রমণের সময় মাসিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত

অনেকদিন ধরে প্ল্যান করে কলেজের বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যাবার জন্য বের হলো লামিয়া। কয়েকদিন থেকে সবাই মিলে আলোচনা করা হলো তিন দিনের ট্যুরে কি কি করা হবে, নাহবে তা নিয়ে। পুরো ট্যুরের প্ল্যান যেহেতু লামিয়ার ছিলো, তাই ওর উপর দায়িত্বটা একটু বেশি। জার্নি শুরুর আগে সবাইকে কল করে এক করা, সবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া সব ও একা করেছে। এরপর নির্দিষ্ট দিনে শুরু হলো যাত্রা। কক্সবাজার।

কিন্তু বাসে উঠে কিছু দূর যাবার পর, হঠাৎ করে লামিয়া খেয়াল করলো ওর মাসিক হয়েছে। কোন রকম ব্যবস্থা না নিয়েই বের হওয়ায়, বাসের মধ্যে কি করা উচিত বুঝতে পারলো না। কাউকে কিছু না বলে, একেবারে পিছনের সিটে গিয়ে চুপচাপ বসে পরলো লামিয়া। সবাই হৈ-চৈ করলেও কিছুই ভালো লাগছিলো না ওর। কিছুক্ষণ পর বন্ধুরা গান গাওয়ার জন্য ওকে ডাকলো, কিন্তু লামিয়া সিট থেকে একটুও নড়লো না। বরং বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে ফেললো।

এটা দেখে, গান বন্ধ সীমা এসে জানতে চাইলো, কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা বা ওর শরীর খারাপ করেছে কিনা? বাধ্য হয়ে, সীমাকে ও বললো যে ওর মাসিক হয়েছে। কিন্তু সীমার কাছেও কোন প্যাড ছিলো না। কেমন অপ্রস্তুত লাগছিলো লামিয়ার। মনে হলো পুরো ট্যুরটাই মাটি হয়ে গেলো।

এরকম পরিস্থিতিতে অপ্রস্তুত না হয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অনিয়মিত মাসিক সমস্যা থাকলে কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলে, একটু অসাবধানতার জন্য লামিয়ার মতো অনেকেই এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। হঠাৎ ভ্রমন বা কোথাও যাওয়া মানেই ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ। অন্যদের বেলায় যেটা শুধু ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ, মেয়েদের বেলায় তার সাথে যোগ হয় আরেকটি জিনিস, সেটা হলো মাসিক  ব্যবস্থাপনা। মাসিক যেকোন সময়, যেকোন জায়গায় হতে পারে। প্লেনে, বাসে, ট্রেনে, গাড়িতে, ওয়াগনে, স্পেইসশিপে। তাই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। কারণ চলতি পথে মাসিক হওয়া এবং ব্যবস্থাপনা না থাকা একটা ছোট-খাটো দূর্যোগের মতো।

কোন কোন গাইনোকলজিস্ট ভ্যাজাইনাল মাইক্রোবায়োম বিষয়ে বলেন, ছোট-ছোট পরিবর্তন যেমন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে, ভিন্ন টাইমজোনে, মানসিক চাপে, এমনকি ঘুমের তারতম্য হলে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে মাসিক হতে পারে। সেজন্য মাসিকের তারিখ মনে রেখে ট্র্যাভেল প্ল্যান করাটা খুব জরুরি।

বাড়ি থেকে বের হবার আগে কিংবা সবসময়ই ব্যাগে মাসিকের সময় ব্যবহার করা হয়, এরকম প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে হবে। পরিস্কার কাপড়, তুলা বা প্যাড, হিটিং প্যাডস, আরামদায়ক কাপড়, প্ল্যাস্টিক ব্যাগ, টিস্যু, হ্যান্ড সেনিটিজার ইত্যাদি। আর যাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে, পিরিয়ডের সময় ব্যথা হয়। তাদের অবশ্যই সাথে প্রয়োজনীয় অষুধ রাখতে হবে। ব্যথা হলে আর কিছু পাওয়া না গেলে, পর্যাপ্ত পরিমান পানি খেতে হবে। দীর্ঘ সময় প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন না করলে টক্সিক শক সিনড্রোম হতে পারে। তাই যেকোন পরিস্থিতিতে বিষয়টি শেয়ার করা যায় এমন কাউকে বলে তার সাহায্য নিতে হবে। সুস্থ্য থাকা মানেই, ভালো থাকা।

কমেন্ট করুন

আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসটি প্রকাশ করা হবে না