মহাকাশে মাসিক হলে!

মহাকাশে মাসিক হলে!

মহাকাশ রহস্য ভেদে বিজ্ঞানীদের সাথে সাথে সাধারণ মানুষদেরও আগ্রহের যেন শেষ নেই। মহাশূন্যে প্রমোদ ভ্রমনে যেতেও এক পায়ে রাজি অনেকেই। গ্রহ-উপগ্রহ আর তারাদের নিয়ে নানান গবেষণা তো হরহামেশাই হচ্ছে তবে মহাকাশে মাসিক হলে কী করতে হয় তা নিয়ে কি কেউ কখনো ভেবেছি?

১৯৮৩ সালে আমেরিকার প্রথম নারী মহাকাশচারী স্যালি রাইডের মহাশূন্যে ভ্রমণের আগ পর্যন্ত এ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা ছিল না। স্যালির মহাশূন্য ভ্রমণের মুহূর্তে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরে নাসার মেডিকেল কর্মকর্তারা। এক সপ্তাহের এই মিশনে স্যালির জন্য ১০০টি প্যাডের ব্যবস্থা করা হয় কারণ কারোরই ধারণা ছিল না মধ্যাকর্ষণ বল মাসিকের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর দেখা গেল পৃথিবীতে মাসিক আর মহাকাশে মাসিকের সময়কাল ও প্রক্রিয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

তবে চিন্তার বিষয় হল আজ পর্যন্ত যত মহাকাশ ভ্রমণ এবং এ সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে তার সবই অল্প দূরত্বের ভ্রমণের ক্ষেত্রে। গবেষকদের নতুন চিন্তা হলো দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রে কী হবে?

এমন অবস্থায় মহাকাশ ভ্রমণ এবং প্রশিক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাসিক বন্ধ রাখাই একমাত্র পন্থা। আর সেজন্য রয়েছে নানান প্রক্রিয়া। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট বা বড়ি খাওয়া, জরায়ুতে ইন্ট্রা ইউটেরিন কন্ট্রাসেপ্টিভ ডিভাইস (আই.ইউ.সি.ডি) স্থাপন করা, ডেপো শট ইনজেকশন পদ্ধতি নেয়া ইত্যাদি। তবে জন্মনিরোধক পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বিধায় আই.ইউ.সি.ডি স্থাপন করাই নিরাপদ বলে মনে করেন নাসার মেডিকেল কর্মকর্তারা।

তবে লন্ডনের কিংস কলেজের একটি গবেষণাপত্রে লেখক ভার্শা জেইন বলেন যে মহাকাশে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা হরমোনের প্রভাব আরও ভাল করে বোঝার জন্য আরও গবেষণা করা দরকার। তাহলেই হয়ত মানুষ নতুন কোন পৃথিবীতে বসবাসের জন্য নিজেকে উপযোগী করার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে যেতে পারবে। তবে বলা বাহুল্য যে, পৃথিবীতে হোক বা মহাশূন্যে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সবখানেই।

 

ছবি ও তথ্যসূত্র: সায়েন্স এলার্ট

মহাকাশে নারী মহাকাশচারীর ঋতুস্রাব জটিলতা

কমেন্ট করুন

আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসটি প্রকাশ করা হবে না