প্রশ্ন কর্তার নাম :  মো: জিয়া উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ মাসিক শুরু হওয়ার আগেই মাসিককালীন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা দরকার। মাসিকের সময় স্বাস্থ্যের বিশেষভাবে যত্ন নেয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি, যাতে পরবর্তিকালে কোন জটিলতার সৃষ্টি না হয়। #ক্যালেন্ডার বা ডায়েরিতে মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখে দাগ দিয়ে মাসিক চক্র পর্যবেক্ষণ করা দরকার #মাসিকের সময় সুষম খাবার খেতে হবে যাতে দেহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় #ব্যবহৃত প্যাড বা কাপড় কাগজ দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে আবর্জনায় ফেলতে হবে। টয়লেটের মধ্যে কোনভাবেই ফেলা যাবে না; নয়তো সুয়ারেজ লাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে #প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন করা, যাতে করে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ না হয়। রক্তপ্রবাহ বেশি হলে আরো কম সময়ের মধ্যেও পরিবর্তন করা যেতে পারে #যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা দরকার ও মাসিকের দিনগুলোতে নিয়মিত গোসল করতে হবে #মাসিকের সময় মানসিক চাপ মুক্ত থেকে ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কর্মচঞ্চল জীবনযাপন করতে হবে মাসিক সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন: https://rituonline.org/ https://www.youtube.com/channel/UCudQLrvpObNAg-DCdspatLQ https://www.facebook.com/RituKothon/

প্রশ্ন কর্তার নাম :  মো: জিয়া উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ স্বপ্নদোষ হলো একজন মানুষের ঘুমের মধ্যে যৌন উত্তেজনা অনুভব বা বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা। স্বপ্নদোষ হলো একজন পুরুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা। বয়:সন্ধিকালে শরীরে নানা ধরণের পরিবর্তন আসে। এ সময় শরীরের বিভিন্ন জনন অঙ্গের সঠিকভাবে বৃদ্ধি এবং নিউট্রিশন ব্যালেন্সের জন্য শরীর বেশি বেশি পরিমাণে টেস্টোরেন হরমোন তৈরি করতে থাকে যা মাঝেমাছে ঘুমের মধ্যে ইরেকশন ঘটায় বা যৌন উত্তেজনা তৈরি করে। এটাই স্বপ্নদোষ। স্বপ্নদোষ মানেই কেবল ইরেকশন বা বীর্যপাত নয়। ইরেকশন বা বীর্যপাত ছাড়াও কেবল যৌন উত্তেজনার মাধ্যমেও স্বপ্নদোষ হতে পারে। অনেক রোগী স্বপ্নদোষ হওয়াকে মারাত্মক রোগ বলে মনে করেন। তাদের ধারণা, যৌবনে এটা একটা প্রধান যৌন সম্পর্কিত রোগ। কেউ কেউ নানা ধরনের চিকিৎসা করানন্ধ এমনকি স্বপ্নদোষ ও হস্তমৈথুনের জন্য প্রচলিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করান। কিন্তু এটি আসলে কোন রোগ নয় বরং প্রকৃতিক ও স্বাভাবিক ব্যাপার। শরীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক নিয়মেই এটি ঘটে থাকে। তবে যদি অতিরিক্ত বীর্যপাত ঘটে বা এর ফলে শরীর অতিরক্ত দর্বল হয়ে পরে তবে অবশ্যই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

প্রশ্ন কর্তার নাম :  রানা উত্তর:  রানা, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মাসিক সাধারণত ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে যদি তা ১০ থেকে ১২ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তবে অবশ্যই গাইনী বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। মাসিক সম্পর্কে আরও জানতে ঋতু অনলাইনের সাথে থাকুন এবং সদস্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করুন এই লিংকে – https://www.rituonline.org/

প্রশ্ন কর্তার নাম : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ মেঘা, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মাসিক সাধারণত ২৮ দিন পর পর হয়ে থাকে। তবে ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে যদি হয়ে থাকে তবে তা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু আপনার যদি প্রায়ই সময়মত (তারিখ অনুযায়ী) মাসিক না হয় এবং ২ থেকে ৩ মাস মাসিক বন্ধ থাকে তবে সেক্ষেত্রে গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া দরকার। মাসিক সম্পর্কে আরও জানতে ঋতু অনলাইনের সাথে থাকুন এবং রেজিস্ট্রেশন করুন ঋতু অনলাইনে: https://www.rituonline.org/

প্রশ্ন কর্তার নাম : ফাইজা ইসলাম উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ মাসিক সাধারণত ৯-১৫ বছর বয়সে শুরু হয় এবং সাধারণত ৪৪-৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। মাসিক সাধারণত ২৮ দিন পর পর শুরু হয়ে থাকে এবং ৩-১০ দিন পর্যন্ত চলে। তবে এ সব কিছুই ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কারও ৯ বছর বয়সে মাসিক শুরু হতে পারে আবার কারও ১৫ বছরেও শুরু হতে পারে। হরমনের প্রভাব ও খাদ্যাভাস সহ বিভিন্ন করণে ব্যক্তি বিশেষে মাসিক শুরু হওয়ার সময় আলাদা হয়ে থাকে। আপনার বয়স যেহেতু ১০ বছর, এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আপনি অপেক্ষা করুন। যদি ১৫ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও আপনার মাসিক শুরু না হয় তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরমর্শ নিতে হবে। ধন্যবাদ

প্রশ্ন কর্তার নাম : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ মাসিককালীন সময়ে শরীর থেকে যে রক্ত বের হয় তা কোন বিপদজনক বা দূষিত রক্ত নয়। মাসিক মেয়েদের জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সুস্থভাবে বেড়েওঠা ও সন্তানধারণ ক্ষমতা লাভের লক্ষণ। মেয়েদের তলপেটের জরায়ুর দু’পাশে দু’টি ছোট থলি থাকে যাকে ওভারি বা ডিম্বাশয় বলে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে প্রতিমাসে একটি করে ডিম বা ডিম্বাণু পরিপক্ক হয়। একে বলে ডিম্বস্ফোটন। পরে এই ডিম্বাণু ডিম্বনালির পথ দিয়ে দুই ডিম্বাশয়ের মাঝ খানে অবস্থিত জরায়ুতে এসে আশ্রয় নেয়। এই সময়ে জরায়ুতে ডিম্বানুকে ধরে রাখার জন্য রক্তে ভরা একটি পর্দা বা আস্তরন তৈরী হয়। এই অবস্থায় ডিম্বানু ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। এই সময়ের মধ্যে ডিম্বানু নিষিক্ত না হলে এই রক্তে ভরাপর্দা ও ডিম্বানু ফেটে যায় এবং যোনি পথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই ঘটনা ৩ দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রত্যেক মাসে হয় বলে এই ঘটনাকেই মাসিক বা ঋতুস্রাব বা রজ:স্রাব বা পিরিয়ড বা মিনিস্ট্রুয়েশন বলে। অনেকেই একে শরীর খারাপ বা অসুস্থতা বলে থাকেন, যা মোটেই ঠিক নয়। এটি শরীর খারাপ বা অসুস্থতার কোনো ব্যাপারই নয়, বরং একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ব্যাপার।

প্রশ্ন কর্তার নাম : প্রমি ইসলাম উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ, মাসিক মেয়েদের জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সুস্থভাবে বেড়েওঠা ও সন্তানধারণ ক্ষমতালাভের লক্ষণ। মেয়েদের তলপেটের জরায়ুর দু’পাশে দু’টি ছোট থলি থাকে যাকে ওভারি বা ডিম্বাশয় বলে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে প্রতিমাসে একটি করে ডিম বা ডিম্বাণু পরিপক্ক হয়। একে বলে ডিম্বস্ফোটন। পরে এই ডিম্বাণু ডিম্বনালির পথ দিয়ে দুই ডিম্বাশয়ের মাঝ খানে অবস্থিত জরায়ুতে এসে আশ্রয় নেয়। এই সময়ে জরায়ুতে ডিম্বানুকে ধরে রাখার জন্য রক্তে ভরা একটি পর্দা বা আস্তরন তৈরী হয়। এই অবস্থায় ডিম্বানু ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। এই সময়ের মধ্যে ডিম্বানু নিষিক্ত না হলে এই রক্তে ভরাপর্দা ও ডিম্বানু ফেটে যায় এবং যোনি পথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই ঘটনা ৩ দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রত্যেক মাসে হয় বলে এই ঘটনাকেই মাসিক বা ঋতুস্রাব বা রজ:স্রাব বা পিরিয়ড বা মিনিস্ট্রুয়েশন বলে। মনে রাখতে হবে যে- •    মাসিক শুরু হবার গড় সময় ৯ থেকে ১৫ হলেও আমাদের দেশে অনেক মেয়েরই সাধারণত ১২ বছর বয়সে হয়, কারো আবার ৯ বছরেই আরম্ভ হয়ে যায়, আবার কারো-বা এটা ১৮ বছরেও শুরু হতে পারে। এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুনেই। •    একইভাবে, মেনোপজ-এর বেলায়কারো ৪০এও আরম্ব হতে পারে, কারো-বা এটা ৫৫ জছর পরেও আরম্ভ হতে পারে। •    মাসিক চলার স্বাভাবিক সময়সীমা ৩ দিন থেকে ৭ দিন ধরা হলেও, কারো-বা ১০ দিন পর্যন্ত চলতে চলতে পারে। •    মাসিকচক্রের সাধারণ সময়সীমা ২৮ দিন। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে এটি ২৪ দিনও হতে পারে, আবার ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। •    প্রথমবার মাসিক শুরু হবার পর দুই বছর বা তার কিছু বেশী সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। এর কারণ হলো তাদের প্রজননঅঙ্গ তখন ও পরিপূর্ণ ভাবে তৈরী হয়নি। এসময়ের পরে স্বাভাবিক ভাবেই বালিকাদের মাসিক নিয়মিত হয়ে ওঠে। কাজেই অল্পবয়সী মেয়েদের, যাদের প্রথম মাসিক হয়েছে তাদের মাসিক অনিয়মিত থাকলে দুঃশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। •    মেয়েরা তাদের মাসিক চক্র নিয়মিত হচ্ছে কিনা বোঝার জন্য ফোনে বা দেয়ালের ক্যালেন্ডারে দাগে কেটে রাখতে পারে। স্কুলে মাসিক হলে: মাসিক একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি সুস্থ স্বাভাবিক নারীর প্রতি মাসে মাসিক হয়। চান্দ্র মাসের সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক সম্পর্ক আছে বলেই একে মাসিক বলা হয়। মাসিক নিয়ে ভয়ভীতি বা লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু অপ্রস্তুত অবস্থায় মাসিক শুরু হয়ে গেলে অনেক সময় খানিকটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় বটে। যেমন ধরা যাক স্কুলে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কারো মাসিক শুরু হয়ে যেতে পারে। স্কুলগামী কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কেননা, প্রথম মাসিক শুরুর পর প্রায় বছর দুয়েক পর্যন্ত মাসিক নিয়মিত না-ও হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ২৮ বা ৩০ দিনে মাসিক চক্র ভাঙছে না, হয়তো এই সময়সীমার আগে বা পরে হয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুলে মাসিক শুরু হওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। এমন সম্ভাবনা বা আশঙ্কা থাকলে কিছু কিছু বিষয়ে মনযোগী হওয়া যেতে পারে। যেমন- •    স্কুলব্যাগে বাড়তি একটি বা দুইটি প্যাড অথবা পরিষ্কার গামছা রেখে দেওয়া যেতে পারে। •    ক্লাসে শুরু হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানানো যায়। এতে লজ্জা বা সঙ্কোচের কিছু নেই। •    স্কুলে মাসিকবান্ধব বাথরুম না থাকলে সহপাঠীরা মিলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে কয়েক ক্লাসের ছাত্রীরা মিলে আলোচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেহেতু মাসিক প্রতি মাসেই হয় এবং ব্যক্তি বিশেষে পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত রক্তস্রাব স্থায়ী হয়। ফলে, এই কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখে পড়ালেখার ক্ষতি করার কোন অর্থ হয় না। তাতে সহপাঠীদের চেয়ে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে যা পরবর্তীতে মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে। তাই, স্কুলে হঠাৎ করে মাসিক শুরু হয়ে গেলে যেন বিপদে পড়তে না হয় সেজন্যে সবারই উচিত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। তাতে নিজের ও সকলের জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আরও জানতে আমাদের ওয়বেসাইটে (https://rituonline.org)রেজিস্ট্রেশন করে আমাদের টেকহোম মডিউল (https://rituonline.org/টেক-হোম-মডিউল/) পড়ুন

প্রশ্ন কর্তার নাম : নাঈমা ফেরদৌসী উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ, বয়ঃসন্ধিকাল একটি মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়স হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যের ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, এনার্জি লেভেল এবং অন্যান্য বডি প্রসেসে সাহায্য করে। কারণ এ সময় ওদের শারীরিক বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়। তাই এসময় প্রতিদিন তাজা ফল ও সবজি, শস্যদানা, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এ সবের পাশাপাশি মাল্টি ভিটামিন খাওয়াও জরুরি। কেননা, মাল্টি ভিটামিন পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি বিশুদ্ধ পানি পান করা। পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশনের কবল থেকে রক্ষা করে মেটাবলিজমকে সচল রাখে। শুধু তাই নয়, পানি শরীরের ওজন কমায়, ত্বক সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বয়ঃসন্ধিকালে প্রচুর পানি পান করা উচিৎ। বয়ঃসন্ধিতে মেয়েদের মাসিক শুরু হয় এবং এ কারণে প্রতিমাসে রক্তের মাধ্যমে প্রচুর লৌহ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য অপর্যাপ্ত গ্রহণের ফলে আয়রণের অভাবজনিত এনিমিয়া দেখা দেয়। তাই কিশোরীদের খাদ্যের মাধ্যমে লৌহ/আয়রণের চাহিদা পূরণ করতে হবে। ডিম, মাছ, মাংস, কলিজা, সবজি, শাকে প্রচুর আয়রণ রয়েছে। তাই প্রতিদেনের খাবারের তালিকায় এই খাবারগুলোকে স্থান দিতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে দেখা যায় কিশোর কিশোরীদের বাইরের খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে। তাই ফাস্টফুড ও অধিকমাত্রায় শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজনবিধ্য দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন মাসিকের সমস্যা, বন্ধাত্বসহ অনেক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এসব খাবার যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের শ্রেণি বিভাগ ক. শক্তিদায়ক খাবার শ্বেতসার বা শর্করা সমৃদ্ধ খাবার, যেমন : চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, গুড়, আলু, মধু ইত্যাদি তেলসমৃদ্ধ খাবার, যেমন : তেল, ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি। খ. শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক খাবার প্রাণিজ আমিষ : মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধজাত খাবার উদ্ভিজ আমিষ : বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়াবিন, বাদাম, সীমের বীচি, মটরশুঁটি, তৈলবীজ (তিল/সরিষা) ইত্যাদি। গ. রোগ প্রতিরোধক খাবার খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন ও খণিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার। যেমন: গাঢ়, রঙিন শাক-সবজি, বিভিন্ন ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি। ঘ. পানি ও তরল খাবার সকল ধরনের তরল পানীয় যেমন: বিশুদ্ধ পানি, দুধ, ডাবের পানি, ভাতের মাড়, ডালের পানি, শরবত ইত্যাদি। আরও জানতে আমাদের ওয়বেসাইটে (https://rituonline.org)রেজিস্ট্রেশন করে আমাদের টেকহোম মডিউল (https://rituonline.org/টেক-হোম-মডিউল/) পড়ুন

প্রশ্ন কর্তার নাম : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ, মাসিকে পুষ্টিকর খাবার মাসিক, শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর প্রত্যেক মেয়ের জীবনেই এটি হয়ে থাকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক নিয়মে। প্রথম মাসিকের অভিজ্ঞতা হবার পর থেকে, ধীরে ধীরে মাসিক মেয়েদের জীবনের একটা অংশ হয়ে যায়। তাই বিষয়টি শরীরের উপর কতোটা প্রভাব ফেলছে, অনেক সময় সেটা আপনি নিজেও বুঝতে পারেন না। মাসিকচক্র একটি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। পুষ্টি উপাদানটি হলো, আয়রন। আয়রন রক্তের একটি অন্যতম উপাদান। তাই সব ধরণের রক্তপাতেই আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যেহেতু মাসিকের সময় প্রতিমাসে শরীর থেকে বেশকিছু রক্ত বের হয়ে যায়, তাই যেকোন মেয়ের শরীরে আয়রনের অভাবজনিত সমস্যা হতে পারে; যদি মাসিক চলাকালীন সঠিক মাত্রায় খাবার গ্রহনের মাধ্যমে, পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত না করা হয়। মানুষের শরীর থেকে যে পরিমান আয়রন বের হয়, খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সেই পরিমান আয়রন শরীরে প্রবেশ না করলে এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর আয়রনের ঘাটতির কারণে অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে। যা আপনার রক্তে স্বাস্থ্যকর ব্ল্যাড সেল তৈরীতে বাধা দেয়। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৪২ ভাগ নারীর রক্তে আয়রনের ঘাটতি আছে, যা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে ৪ জন অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতার শিকার। মাসিকের সময় যাদের অনেক বেশি রক্তপাত হয়, তাদের অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কম কিংবা মাঝারি ফ্লো থাকে, তাদের প্রাকৃতিকভাবেই আয়রন এর লেভেল ঠিক হয়ে যায়। আপনার ফ্লো বেশি হচ্ছে না কম, সেটা জানতে দিনে কতোবার প্যাড, কাপড় বা ট্যাম্পুন বদলাতে হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘন্টায় ঘন্টায় যদি প্যাড বদলাতে হয়, তার মানে আপনার রক্তপাত বেশি হচ্ছে। এর পাশাপাশি কিছু লক্ষণ আছে যা দেখে আপনি বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের পরিমান কমে যাচ্ছে কিনা, আপনি অ্যানিমিয়ার দিকে এগোচ্ছেন কিনা! অ্যানিমিয়ার অন্যতম লক্ষণ গুলো হলো- অবসাদ, দুর্বলতা, ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, খাবারে অরুচি, অমনযোগী হওয়া, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, জিহ্বা ও মুখে ব্যথা, ভঙ্গুর নখ, জ্বর, বমি ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলোর যেকোনটা দেখা দিলে, ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া দরকার। কখনো কখনো একটা অষুধই পারে আপনার সব সমস্যার সমাধান করে দিতে, আবার কখনো সমস্যা বাড়তে দিলে দেরি হয়ে যায় সমাধানে পৌঁছাতে। তাই, ডাক্তারের কাছে যাবার আগে এবং অসুখকে বাড়তে দেয়ার আগে নিজে সচেতন থাকাটা সবচেয়ে ভালো। এক্ষেত্রে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে আপনার খাবার তালিকার দিকে। এ সময় নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে কিছু খাবার গ্রহণ বেশ জরুরি। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেসব খাবারে প্রচুর আয়রন পাওয়া যায় মাসিকের সময় তা নিয়মিত খাবার চেষ্টা করতে হবে। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, কলিজা, কচু শাক, পুঁই শাক, ডাঁটা শাক, ফুলকপির পাতা, ছোলা শাক, ধনে পাতা, তরমুজ, কালো জাম, খেজুর, পাকা তেঁতুল ও আমড়া এই খাবারগুলো শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরে আয়রনের ঠিকমত শোষণ ও যথাযথ কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন সি খুব জরুরি। এ কারনে মাসিকের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়া প্রয়োজন। বেশ কিছু পরিচিত ফলে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। যেমন:  পেয়ারা, আমড়া, আমলকি, লেবু, জলপাই, জাম্বুরা, পাকা টমেটো, কামরাঙা, পাকা পেঁপে, আনারস ইত্যাদি পানি মাসিকের সময় রক্তপাতের পাশাপাশি শরীর থেকে অনেক খানি তরল বেরিয়ে যায়। এই অভাব পূরণ করার জন্য এ সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। এসময় দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, চা, কফি, কোমল পানীয় ইত্যাদি দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ হয় না। সাধারণ পানিই শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সব চাইতে বেশি কার্যকর।  চাইলে, হালকা কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে। এতে অনেক সময় পেট ব্যথা থাকলে আরাম পাওয়া যায় বাদাম বাদামে নানান রকম ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এগুলো মাসিকের সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে লবণে ভাজা বা চিনি মেশানো বাদাম খাওয়া উচিত নয়। চীনা বাদাম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা ইত্যাদি মাসিক বান্ধব টয়লেট মাসিকের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা বেশ জরুরি। তার জন্য পরিষ্কার কাপড় বা প্যাড ব্যবহার করা, হাত ধোয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার টয়লেট ব্যবহার করা প্রয়োজন। মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বান্ধব টয়লেট বলতে এমন টয়লেট বোঝায় যাতে সাবান, পরিষ্কার পানি এবং প্যাড ফেলানোর বাক্স (ডিস্পোজাল)-এর ব্যবস্থা থাকবে। আবার টয়লেটে দরজা বা ছাদ না থাকলে তা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। মেয়েরা এই রকম টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়ে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা দরকার। একটি মাসিকবান্ধব টয়লেটে নিচের বিষয়গুলো থাকা জরুরিঃ •    পরিষ্কার পানি •    পানির নিরাপদ উৎস •    পানির অব্যাহত সরবরাহ •    সাবান •    ঢাকনাসহ ডাস্টবিন •    গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণ •    নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

প্রশ্ন কর্তার নাম : সায়মা

উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ,

মাসিক শুরু হওয়ার আগেই মাসিককালীন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা দরকার। মাসিকের সময় স্বাস্থ্যের বিশেষভাবে যত্ন নেয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি, যাতে পরবর্তিকালে কোন জটিলতার সৃষ্টি না হয়।

#ক্যালেন্ডার বা ডায়েরিতে মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখে দাগ দিয়ে মাসিক চক্র পর্যবেক্ষণ করা দরকার #মাসিকের সময় সুষম খাবার খেতে হবে যাতে দেহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় #ব্যবহৃত প্যাড বা কাপড় কাগজ দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে আবর্জনায় ফেলতে হবে। টয়লেটের মধ্যে কোনভাবেই ফেলা যাবে না; নয়তো সুয়ারেজ লাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে #প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন করা, যাতে করে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ না হয়। রক্তপ্রবাহ বেশি হলে আরো কম সময়ের মধ্যেও পরিবর্তন করা যেতে পারে #যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা দরকার ও মাসিকের দিনগুলোতে নিয়মিত গোসল করতে হবে #মাসিকের সময় মানসিক চাপ মুক্ত থেকে ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কর্মচঞ্চল জীবনযাপন করতে হবে

মাসিক সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন:

https://rituonline.org/

https://www.youtube.com/channel/UCudQLrvpObNAg-DCdspatLQ

https://www.facebook.com/RituKothon/