মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

গত ২০ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে জাতীয় পাঠ্যক্রমে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়টি অন্তর্ভূক্তিকরণের লক্ষ্যে বিএনপিএস এবং এমএইচএম প্লাটফর্ম এর যৌথ উদ্যোগে মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক ও এমএইচএম প্লাটফর্ম এর চেয়ার পারসন রোকেয়া কবীর।

উক্ত পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো: গোলাম ফারুক, সম্মানিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন জাতীয়  শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের, উর্দ্ধতন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ মাহফুজ আলী, টির্চাস ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, অ্যাম্বাসী অফ দি কিংডম অফ দি নেদারল্যান্ডস –এর সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার, এসআরএইচআর অ্যান্ড জেন্ডার, মাশফিকা জামান সাটিয়ার। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের-এর শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ইকবাল হোসেন, ইউবিআর অ্যালায়ান্স-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফাহাদ উবায়েদ, সিমাভি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহবুবা কুমকুম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহবুবা কুমকুম ঋতু প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেন। মাসিক স্বাস্থ্য  বিষয়ে এনসিটিবি-র বই এর আধেক্ষ্য বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন আইসিসিডিআরবি-এর গবেষক ড. টিশান মাহফুজ এবং পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য  মাসিক স্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক গ্রেড অনুযায়ী প্রস্তাবিত বিষয় এবং এর প্রযোজনীয়তা সম্পর্কে উপস্থাপন করেন বিএনপিএস-এর উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী।

বিষয় ভিত্তক আলোচনার শুরুতে বিএনপিএস এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পাঠ্যসূচিতে মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্তিকরণ একটি সময়োপযোগী দাবি।

ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জনাব ইকবাল হোসেন বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জীবনদক্ষতার উন্নয়ন জরুরী। এছাড়া ইউবিআর এ্যালইয়েন্স এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমিন ফাহাদ ওবায়েদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সহ সামগ্রিক যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের জেন্ডার ও এসআরএইচআর বিষয়ক সিনিয়র পলিসি এডভাইজার মাশফিকা জামান সাটিয়ার বলেন, জীবন দক্ষতা বৃদ্ধিতে যে কোন বিষয়বস্তুকে প্রকাশ করার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো জাতীয় পাঠ্যক্রম। তাই জাতীয় পাঠ্যক্রমে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করার কোন বিকল্প নেই।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তারা বলেন, সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এনসিটিবি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয় জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এর মাননীয় মহাপরিচালক, প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, পরীক্ষা নির্ভর পড়াশোনা অপেক্ষা অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা পদ্ধতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ মাত্রা অর্জনে অধিকতর উপযোগী।

উল্লেখ্য যে, মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত “শারীরিক শিক্ষা” ও “স্বাস্থ্য ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞান” বইয়ে বয়ঃসন্ধিকাল, ঋতুস্রাব, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়গুলো আছে, তবে এক্ষেত্রে তথ্যের অপর্যাপ্ততা ও যুক্তিসিদ্ধ বিন্যাসের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, এছাড়া মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই । অন্যদিকে মাসিক নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারনা ও অসচেতনতার কারণে শিক্ষকরাও অনেক সময় পাঠদানের ক্ষেত্রে এবিষয়গুলোতে এড়িয়ে যান। তাই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পাঠক্রম পূর্ণবিন্যাস এবং পাঠ্যপুস্তকে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সম্পৃক্ত যৌন শিক্ষা যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।  এছাড়াও বিদ্যমান পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলো থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়ক কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করতে উদ্যোগ দরকার যা মেয়েদের স্কুলে যেতে ও বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের  স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে।

কমেন্ট করুন

আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসটি প্রকাশ করা হবে না